কোন দেশ কত শক্তিশালী

পোস্টটি শেয়ার করুন

কোন দেশ কত শক্তিশালী

কোন দেশ কত শক্তিশালী, কোন দেশের সেনাবাহিনী বেশি, কোন দেশের সেনাবাহিনী বেশি শক্তিশালী প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে আমরা সবাই খুব আগ্রহী ।

আশা করি এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসবে।

জানতে হলে পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

আরব ইরান ইসরাইল তুরস্ক আমেরিকা কে কতটা শক্তিশালী

সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বরাবরই খুব একটা ভালো নয়। মাঝেমধ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার ছাড়ে। সেই উত্তেজনায় ঘি ঢেলে অনুঘটকের কাজ করে ইসরাইল। 

 ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবর দখল করে গড়ে ওঠা ইসরাইল হল মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের স্তূপ। ইরানের সঙ্গে সাপে – নেউলে সম্পর্ক আমেরিকা এবং ইসরাইলের। কিন্তু আরবদের সঙ্গে অভিন্ন হৃদয় বন্ধুত্ব। কারণ শত্রুর শত্রু বন্ধু। 

এই ফর্মুলাই কাজ করে মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোতে।

অতি সম্প্রতি সৌদির সর্ববৃহৎ তেলকম্পানি আরামকোয় ভয়াবহ ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। 

সৌদির তেল উৎপাদন এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে গেছে। 

 ইয়েমেনি শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি এই হামলার দায় স্বীকার করলেও আরব – আমেরিকা জুটি ইরানকেই দায়ী করছে।

এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। 

 সৌদি আরব বলছে তারা সমুচিত জবাব দিতে তৈরি। 

সামরিক শক্তিতে ইরানের ধারে কাছে না থাকলেও তাদের ভরসা আমেরিকা – ইসরাইল। অন্যদিকে, ইরান বলছে তারা হামলা করলে শুধু আরামকো কেন , সৌদির আরাম হারাম করে দিত। 

এমতাবস্থায় কার কত ক্ষমতা এবং যুদ্ধ হলে কে জিততে পারে, সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।

সৌদি আরব কতটা শক্তিশালী 

সামরিক খাতে সৌদি আরব গতবছর ৬৭৬০ কোটি ডলার ব্যয় করে। যা উপসাগরীয় অঞ্চলে সবথেকে বেশি। 

বিশ্বে সামরিক সরঞ্জামের সবথেকে বড়ো খরিদ্দার হল সৌদি।

বর্তমানে দেশটির মোট সেনা ২ লক্ষ ৩০ হাজার। এ ছাড়াও তাদের রয়েছে ৮৪৮ যুদ্ধবিমান, ২৫৪ হেলিকপ্টার, ১০৬২ ট্যাঙ্ক এবং ৫৫ টি যুদ্ধজাহাজ। তবে সাবমেরিন নেই।

ইরান কতটা শক্তিশালী দেশ 

একদিকে সামরিক খাতে গতবছর ইরানের ব্যয় ১৩২০ কোটি ডলার। যা ২০১৭ সালের তুলনায়  ৯ ভাগ কম। 

মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জেরে আর্থিক মন্দায় গত এক দশকে দেশটি সমরাস্ত্র কেনা কমিয়ে দিয়েছে। 

 ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তারা অস্ত্র কিনেছে সৌদির সাড়ে তিন ভাগ মাত্র। 

বর্তমানে ইরানের সেনা সংখ্যা ৮ লক্ষ ৭৩ হাজার। এছাড়াও রয়েছে ৫০৯ টি যুদ্ধবিমান, ১৫৬ কপ্টার, ১৬৩৪ ট্যাঙ্ক, ৩১৮ যুদ্ধজাহাজ এবং ৩৪ টি সাবমেরিন।

ইসরাইলের সামরিক শক্তি

গতবছর ইসরাইলের সামরিক ব্যয় ছিল ১৫৯৫ কোটি ডলার। দেশটি বেশিরভাগ সামরিক অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করে। 

তাই বিদেশ থেকে খুব বেশি অস্ত্র কেনে না। তবুও গতবছর আমেরিকা ও জার্মানির থেকে ১০৩ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনেছে ইসরাইল। 

দেশটির রয়েছে ৬ লক্ষ ১৫ হাজার সেনা, ৫৯৫ টি যুদ্ধবিমান, ১৪৬ টি কপ্টার, ২৭৬০ ট্যাঙ্ক এবং ৬ টি সাবমেরিন রয়েছে।

তুরস্ক কতটা শক্তিশালী

মুসলিম বিশ্বের নজরকাড়া দেশ তুরস্ক ইতিমধ্যেই সামরিক দিক থেকে প্রবল পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে। 

২০১৮ সালে তাদের ব্যয় ছিল ১৮৯৭ কোটি ডলার। গতবছর আমেরিকা, জার্মানি, রাশিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে ১১১ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনে তুরস্ক। 

তাদের রয়েছে ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার সেনা। যুদ্ধবিমান ১০৬৭ টি, কপ্টার ৪৯২, ট্যাঙ্ক ৩২০০, যুদ্ধজাহাজ ১৯৪ এবং ১২ টি সাবমেরিনের মালিক তুরস্ক।

আমেরিকা কতটা শক্তিশালী 

অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ দেশ আমেরিকা গতবছর সামরিক খাতে ব্যয় করে ৬৪ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। 

তাদের রয়েছে সাড়ে ২১ লক্ষ সেনাবাহিনী, ১৩ হাজার ৩৯৮ টি যুদ্ধবিমান, ৫৭৬০ টি হেলিকপ্টার, ৬২৮৭ টি ট্যাঙ্ক, ৪১৫ টি যুদ্ধজাহাজ এবং ৬৮ টি সাবমেরিন।

আরও পড়ুন – কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম 

আরও পড়ুন – বিশ্বের আশ্চর্য খবর 

আশা করি ৫ টি দেশের মধ্যে কোন দেশ কত শক্তিশালী আপনি জানতে পেরেছেন।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment