হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়

265
হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

আপনি কি হাঁপানি রোগ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে চান ।

তাহলে আপনি সঠিক পোস্টে এসে পৌঁছেছেন ।

আপনি এই পোস্টটি থেকে হাঁপানি রোগের কারণ, হাঁপানিতে কী হয়, হাঁপানি রোগের লক্ষণ, হাঁপানি রোগের চিকিৎসা, হাঁপানি রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন ।

পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো করে পড়ে হাঁপানি রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

Hapani Rog Bangla

হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায় :

আমি প্রথমে হাঁপানি রোগের বিবরণ, আক্রান্ত তন্ত্র, বংশগত প্রভাব, আক্রান্ত লিঙ্গ ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করছি ।

রোগের বিবরণ

শ্বাসনালী ও ক্লোমশাখা অর্থাৎ Tracheobronchial tree তে সামান্য বা অধিক পরিমাণে অবরোধ হেতু অত্যধিক শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং বায়ু চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় হল হাঁপানি।

আক্রান্ত তন্ত্র 

ফুসফুস এই রোগে আক্রান্ত হয়।

বংশগত প্রভাব

এই রোগ বংশগত ভাবে হয়ে থাকে। অবশ্য প্রত্যেকের যে বংশগত, তাহা নহে। যে কোন বয়সে এই রোগ হতে পারে।

আক্রান্ত লিঙ্গ

শিশুদের মধ্যে বালকরা অধিক আক্রান্ত হয়। কৈশোরকালে মহিলাদের পুরুষের সমান হারে এই রোগ হয়। বৃদ্ধদের মধ্যে মহিলাদের মধ্যে বেশি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

হাঁপানি রোগের কারণ

অ্যালার্জিঘটিত কারণ – যেমন বাতাসবাহিত পরাগ, বালির ধূলো, ধাতব অ্যালার্জি, প্রাণীর গায়ের ধূলো বা খুস্কি থেকে অ্যালার্জি, পশু – পক্ষীর পালক থেকে অ্যালার্জিক বস্তু প্রভৃতি নিঃশ্বাস – প্রশ্বাসের সময় ফুসফুসে যায়। এ থেকে হাঁপানি হতে পারে।

এছাড়া ধূমপান, ভাইরাস সংক্রমণ, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, খাদ্যবাহনালীর আক্ষেপ, রক্তে ইওসিনোফিল বৃদ্ধি, ফুসফুসে পেশীর দুর্বলতা, ইমিউনো গ্লোবিউলিন এর অভাব প্রভৃতি থেকেও হাঁপানি হতে পারে। ব্রঙ্কাইটিস রোগীদের হাঁপানিকে ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বলে।

আরও পড়ুন ক্লিক করে – পেট ফাঁপা থেকে মুক্তির উপায় 

হাঁপানিতে কী হয়

শ্বাসনালী গুলোর দেওয়ালে একটা স্তর থাকে অনৈছিক পেশীর।

উত্তেজনায় পেশীগুলো সংকুচিত হয় অর্থাৎ নালীর ভেতরটা সরু হয়ে যায়।

প্রদাহের ফলে শ্বাসনালীর দেওয়ালটা মোটা হয়ে যায় আর নালীর ভেতরে কফ জমে। নালীকে খালি করার জন্য কাশি হয়।

হাঁপানি রোগীরা কোন কষ্টের কথা বলে

হাঁপানির প্রধান তিনটি উপসর্গ হল – শ্বাসকষ্ট, কাশি, নিঃশ্বাসে সাঁই সাঁই আওয়াজ। প্রায় রাতে কষ্ট বাড়ে।

হাঁপানি এমন একটা রোগ যেখানে তীব্র আক্রমনের মাঝে মাঝে কষ্টহীন সময় থাকে।

হাঁপানির টানের সময় রোগীকে পরীক্ষা করে কী পাওয়া যায়

নাড়ীর গতি বাড়ে, শ্বাসগতি বাড়ে, সিস্টোলিক রক্তচাপ সামান্য বাড়ে, বুকে স্টেথোস্কোপ বসালে বাঁশির আওয়াজের মতো আওয়াজ শোনা যায়।

রোগ আরও তীব্র হলে শ্বাসকষ্টের সহায়ক পেশীগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাকের পাতা ফোলে – নামে, পাঁজরের মধ্যেকার পেশীগুলো ভেতরের দিকে ঢোকে – বেরোয়।

হাঁপানি রোগের লক্ষণ

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কাশি, গলায় ও বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয়, রোগী প্রচণ্ড ভাবে হাঁপাতে শুরু করে। শুয়ে থাকলে কষ্ট হয়।

রোগী সর্বদা সামনে ঝুঁকে বসতে চায়। শ্বাস – প্রশ্বাস খুব ধীরে চলে এবং তার শব্দের প্রতিধ্বনি হয়।

নাড়ী এলোমেলো হয়। রোগী নীলবর্ণ ধারণ করে। হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পাওয়া প্রভৃতি ঘটে।

 প্রথম প্রথম ১ – ২ ঘণ্টার মধ্যেই হাঁপানি কমে যায়।

তবে রোগ যতদিন পুরনো হয় তত ঘনঘন আক্রমণ এবং দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে। 

একটানা হাঁপানি চলতে থাকলে তাকে Status asthmatics বলা হয়।

ক্রনিক হয়ে গেলে প্রায় সবসময়ই কম বেশি হাঁপানি চলতেই থাকে। হাঁপানি রোগীর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় না। এদের বুকের খাঁচা সাধারণত চ্যাপ্টা আকৃতির হয়।

হাঁপানি রোগ নির্ণয়

রক্তের T.C.D.C . পরীক্ষার ফল অস্বাভাবিক হয়। Pulmonary function test – এ বায়ু চলাচলের বাধা সম্বন্ধে জানতে পারা যায়।

X – ray chest P.A. এবং Lateral View করলেও বায়ুনালী ক্লোমশাখার অতিরিক্ত স্ফীততা, ফুসফুসের অসম প্রসারণের চিহ্ন প্রভৃতি সম্বন্ধে জানতে পারা যায়।

অ্যালার্জি টেস্ট এবং ইমিউনো গ্লোবিউলিন টেস্ট করেও রোগের হদিস পাওয়া সম্ভব।

হাঁপানি রোগের চিকিৎসা

হাঁপানির দীর্ঘকালীন চিকিৎসার চারটে ধাপ-

প্রথমত

যে সব রোগীর সপ্তাহে তিনবারের কম হাঁপানির কষ্ট কমানোর জন্য সালবুটামল টানতে হয়।

বা যাঁদের মাসে দুবারের কম হাঁপানির টানে রাতের ঘুম ভাঙে, তাঁরা কেবল প্রয়োজন মতো সালবুটামল টানবেন।

দ্বিতীয়ত

রোগীকে যদি সপ্তাহে তিনবারের বেশি সালবুটামল টানতে হয়।

বা মাসে দুবার বা তার বেশি হাঁপানির টানে ঘুম ভাঙে, তাহলে নিয়মিত কম বা মাঝারি মাত্রার স্টেরয়েড শ্বাসের সঙ্গে টানতে হয়।

প্রয়োজনে এর সাথে দিনে ৩ – ৪ বার সালবুটামল টানতে হয়।

এতে কষ্ট ভালো মত না কমলে রাতে বেশি সময় কার্যকরী থিওফাইলিন খেতে দিতে হতে পারে অথবা সালবুটামলের পরিবর্তে সালমেটেরল টানতে হতে পারে।

তৃতীয়ত

দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসায় যাঁদের কষ্ট ভালো ভাবে কমছে না, তাঁদের বেশি মাত্রায় স্টেরয়েড টানতে হয়।

এতেও কষ্ট ভালো মত না কমলে সঙ্গে মুখে খাওয়ার থিওফাইলিন এবং সালমেটেরল টানার জন্য দিতে হয়।

চতুর্থত

তৃতীয় ধাপের চিকিৎসা সত্বেও যদি বারবার রাতে শ্বাসকষ্ট হয়, হাঁপানির জন্য কাজকর্ম করা না যায়।

তাহলে তৃতীয় ধাপের চিকিৎসার সঙ্গে মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড প্রেডনিসোলিন দিতে হয়। যাঁরা কোনও এক ধাপের চিকিৎসায় তিন মাস ভালো আছেন, তাঁদের চিকিৎসার ধাপ কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হয়।

আরও পড়ুন ক্লিক করে – বমি বমি ভাব হলে কি করবো 

শ্বাসের সঙ্গে ওষুধ টানার যন্ত্রগুলি সম্পর্কে

প্রথমত

মিটারড ডোজ ইনহেলার – এতে ওষুধের অনেকগুলো মাত্রা একসাথে থাকে। ইনহেলারের বোতাম টিপলে প্রতিবারই এক নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধের ধোঁয়া বেরোয়।

দ্বিতীয়ত

স্পেসার – কেবল ইনহেলার ব্যবহার করলে কমবেশি ১০ % ওষুধ ফুসফুসে ঢোকে, বাকী ৯০% পাকস্থলীতে চলে যায় অর্থাৎ নষ্ট হয়।

স্পেসারের সাহায্যে ইনহেলার ব্যবহার করলে ইনহেলারের তুলনায় ১৩৩% বেশি ওষুধ শ্বাসনালীতে যায়।

স্পেসারের এক প্রান্তে ইনহেলার লাগানো ফুটো থাকে, অন্য প্রান্তে রোগী মুখ লাগিয়ে ওষুধ টানেন।

তৃতীয়ত

শুকনো পাউডারের যন্ত্র – এ ক্ষেত্রে ওষুধ থাকে একটা ক্যাপসুলে। যন্ত্রে ক্যাপসুল লাগানোর পর ক্যাপসুল থেকে ওষুধ বার করা হয়।

যন্ত্রে মুখ লাগিয়ে জোরে টানলে ওষুধ শ্বাসনালীতে ঢোকে। শ্বাসের সঙ্গে ওষুধ টানার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এটাই অপেক্ষাকৃত কম খরচের।

তবে বাচ্চাদের জন্য এই যন্ত্র উপযুক্ত নয়। যাঁদের শ্বাসনালীর ফুটো খুব সরু হয়ে গেছে, তাঁরাও এ যন্ত্র ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারবে না।

৪. নেবুলাইজার – এই যন্ত্র দিয়ে উচ্চচাপের বাতাস বা উচ্চচাপে অক্সিজেন তরল ওষুধের মধ্যে দিয়ে পাঠালে ওষুধের বাষ্প তৈরি হয়, সেই বাষ্প একটা প্লাস্টিকের মুখোশের বা নালীর সাহায্যে রোগীর শ্বাসনালীতে পাঠানো হয়।

মনে রাখবেন – এই যন্ত্রগুলো ব্যবহারের সময় মুখে ওষুধ জমে। তাই স্টেরয়েড টানার পর ঠাণ্ডা জলে মুখ কুলকুচি করে জলটা ফেলে দিতে হয়, তানাহলে মুখে ছত্রাক সংক্রমণ করে।

হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়গুলি

)  হাঁপানি শুরুর উত্তেজকগুলোর কথা মনে করুন। সেগুলো এড়িয়ে চললেই হাঁপানির টানের সংখ্যা অনেকটা কমানো যায়।

২ )  পশু – পাখির মল ও লোম – পালক এড়িয়ে চলতে হবে।

৩ ) ঘরের ঝুলে থাকা ধূলো – পোকা বা মেঝেতে থাকা ছত্রাক নির্মূল করা মুশকিল। তবু ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। ভেজা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ছত্রাক বাড়ে, তাই ঘরে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা থাকা চাই।

৪ ) পালকের বালিশ, উলের কম্বল ব্যবহার না করা ভালো। বিছানা প্লাস্টিকের কভার দিয়ে মুড়ে দেওয়া উচিত। সপ্তাহে একদিন গরম জলে বালিশের ওয়াড়, চাদর, কম্বল ইত্যাদি ধূতে হবে।

৫ ) তুলোর পুতুল, সফট টয় ও এড়িয়ে চলা উচিত।

৬ ) ধূমপান করা চলবে না, যেখানে অন্যে ধূমপান করছে সে পরিবেশও এড়িয়ে চলতে হবে।

৭ ) সুগন্ধি প্রসাধনী, কড়া জীবাণুনাশক এবং সব কড়া গন্ধের জিনিস এড়িয়ে চললে ভালো।

হাঁপানি রোগীর ভবিষ্যৎ

যে সব রোগীর রোগ মৃদু ধরনের এবং ছোট বয়সেই শুরু হয়, তাঁদের ৫০ – ৮০% এর রোগ বয়স বাড়লে ভালো হয়ে যায়। দেখা গেছে রোগ ধরা পড়ার ৭ – ১০ বছর পরে হাঁপানি রোগী শিশুদের মধ্যে গড়ে ৪৬% এর হাঁপানি থাকে, বাকিরা ভালো হয়ে যায়।

যারা ভালো হয় না, তাদের মাত্র ৬ – ১৯% এরই খারাপ ধরনের হাঁপানি থাকে। পূর্ণ বয়স্ক রোগীদের মধ্যে প্রায় ২০% আপনা থেকেই ভালো হয়ে যায়, ৪০% এর হাঁপানির তীব্রতা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। যে সব রোগী চিকিৎসা পায় না তাঁদের রোগের তীব্রতা বেড়ে যায় এমন না।

আগে বলেছি হাঁপানিতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতার স্হায়ী পরিবর্তন হয় না। যাঁদের এই পরিবর্তন আসে তাঁদের সাধারণত হাঁপানি ছাড়াও অন্য কোনো কারণ থাকে, যেমন – ধূমপান, ধূলো পরিবেশে কাজ করা ইত্যাদি।

হাঁপানি রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা 

হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায় :

আক্রমনের প্রথম অবস্থায় জটিলতা প্রকাশ পেলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত অক্সিজেন এবং I.V. ফ্লুইড চালাতে হবে। Inj. Dextrose – 5% বা 10% I.V. দিয়ে তার সাথে অন্যান্য ইঞ্জেকশন ও পুশ করা চলবে।

হাঁপানি রোগীর চিকিৎসা বাড়ীতে হলে রোগীকে আরাম কেদারা বা অন্যান্য কোন জায়গায় হেলান দিয়ে শোয়াতে হবে। এতে শ্বাসকষ্ট কম হয়। রোগীকে সর্বদা গরম খাদ্য পানীয় দিতে হবে। একটু সুস্থ হলে রোগীকে মুক্ত বাতাসে ঘুরে ফিরে বেড়াতে হবে।

হালকা ব্যায়াম অনেক সময় হাঁপানি থেকে মুক্তি দেয়। খাদ্যবস্তু হালকা ও সহজপাচ্য হওয়া বাঞ্চনীয়। মাছ, মাংস ও অঙ্গুরীমাল জাতীয় খাদ্য বর্জন করাই ভালো। হাঁপানি রোগীর রক্তে ইওসিনোফিল বাড়লে তার চিকিৎসা করতে হবে।


সর্বশেষে একটি কথা বলবো আপনার হাঁপানি রোগ হলে একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করান। 

আরও পড়ুন – ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায়

আরও পড়ুন –  বদহজমের কারণ ও প্রতিকার   

আমি উপরে  হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়হাঁপানি রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আপনি যদি উপরের সমস্ত কিছু ভালো করে পড়েন আশা করবো হাঁপানি রোগ সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পারবেন।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য ।

উপকারে আসলে পোস্টটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here