হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা|উপকারিতা|সঠিক পদ্ধতি|

পোস্টটি শেয়ার করুন

সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

আপনি কি হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান

যদি জানতে চান,

তাহলে আপনি সঠিক পোস্টে এসেছেন।

আমি এই পোস্টটিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি – হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, নিয়ম, সঠিক পদ্ধতি, গুরুত্ব ইত্যাদি।

আশা করি হাত ধোয়া সম্পর্কিত এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসবে।

সমস্ত কিছু জানার জন্য পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়বেন

হাত ধোয়ার উপকারিতা

হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের সকলের জানার প্রয়োজন। আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয় বিভিন্ন কারণে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে ভালো করে হাত ধোয়ার ফলে বহু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

প্রত্যেক জিনিসের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে।‌ তাই ভালো করে হাত ধোয়ারও একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে।‌ 

অনেক শিশু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শুধুমাত্র সঠিক পদ্ধতিতে হাত না ধোয়ার কারণে।

হাত না ধোয়ার অপকারিতা –  সঠিকভাবে হাত না ধোয়ার কারণে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয় যেমন – নিওনেটাল সেপসিস, অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন, নিওনেটাল টিটেনাস এবং ডায়রিয়া।

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর দিনটি ‘ বিশ্ব হাত ধোয়ার ‘ দিবস হিসেবে পালিত হয়। 

এই দিনটি পালন করার উদ্দেশ্যে হল যাতে প্রত্যেক মানুষ হাত ধোয়া সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিয়মিত সাবান বা কোন হ্যান্ড ওয়াশ লিকিউড দিয়ে হাত ধোয়ার উপকারিতা তুলে ধরা বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের কাছে। 

প্রত্যেক বছরই এই দিনটির একটি নির্দিষ্ট থিম থাকে।

ইউনিসেফ এর একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে ৫ বছরের কমবয়সী অন্তত ৬৬ লক্ষ্য শিশুর মধ্যে ১৭ শতাংশ শিশু নিউমোনিয়া এবং ৯ শতাংশ শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়।

সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধোয়ার ফলে এই রোগের দ্বারা মৃত্যুগুলো আটকানো সম্ভব। 

৭ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি শিশু নিওনেটাল পিরিয়ডে ( ২৮ দিনের কম বয়সের শিশু ) মারা যায় কিছু সংক্রামক রোগের জন্য যেমন – নিওনেটাল সেপসিস, অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন, নিওনেটাল টিটেনাস এবং ডায়রিয়া।

আরও পড়ুন ক্লিক করে – করোনা ভাইরাস – কি করবেন আর কি করবেন না

হাত ধোয়ার নিয়ম

কখন অবশ্যই হাত ধোয়া প্রয়োজন

১। সদ্যোজাত বাচ্চা কোলে নেওয়ার আগে হাত অবশ্যই ধুতে হবে।

২। খাবার তৈরির সময়, খাবার তৈরির আগে এবং পরে হাত ধোয়া অবশ্যই প্রয়োজন।

৩। বিশেষ করে যে কোন খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

৪। অসুস্থ ব্যক্তিকে সেবা করার আগে এবং পরে অবশ্যই হাত ধোয়ার প্রয়োজন।

৫। শৌচকর্মের পরে হাত ধুতে হবে।

৬। সর্দি, হাঁচি বা কাশির সময় যখন আমাদের কাছে কিছু থাকে না তখন সাধারণত আমরা নাক – মুখটা হাত দিয়ে ঢাকি। ফলে জীবাণুগুলো হাতে লেগে যায়। তাই হাঁচি কাশির পর অবশ্যই হাত ধোয়ার প্রয়োজন।

৭। পোষ্য পশু বা পাখির গায়ে হাত দেওয়ার পর অবশ্যই ভালো করে হাত ধুতে হবে।

৮। নোংরা কিছুতে হাত দেওয়ার পর অবশ্যই ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি

প্রথমত

প্রথমে অল্প পরিমাণ উষ্ণ জল হাতে নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত

সাবান বা লিকুইড হ্যান্ড ওয়াশ হাতে নিতে হবে।

তৃতীয়ত

২০ – ৪০ সেকেন্ড হাতের তালু এবং আঙুলের সব জায়গা ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে নখের চারপাশ, দুই আঙুলের মাঝখান, কবজি, হাতের তালু ও আঙুলের পিছনের অংশ।

চতুর্থত

এর পর হাত দুটো উপরের দিকে বাতাসে কিছুক্ষণ তুলে ধরে রাখতে হবে। অথবা প্রথমবারের জন্য যদি কোনও কাচা তোয়ালেতে হাতটা মোছা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে ঠিক আছে। সাবান দিয়ে ঘষে এইভাবে হাত ধুলে হাত জীবাণুমুক্ত করা যায়।

হাত ধোয়ার গুরুত্ব

সাবান বা কোন লিকুইড কাছে না থাকলে

অন্ততঃ পক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল মিশ্রিত স্যানিটাইজার দিয়ে হাতের তালু এবং আঙুলের সব জায়গা কিছুক্ষণ ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। 

এইভাবে সঠিকভাবে হাত পরিস্কার করলে আমরা অনেকগুলো আসুখ থেকে রেহাই পেতে পারি যেমন – সর্দি – কাশি, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ, মেনিনজাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস – এ ইত্যাদি। 

সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধোয়ার ফলে অন্ত্র এবং শ্বাসতন্ত্রের অসুখ ২৫ – ৫০ শতাংশ কমানো যায়। 

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস।

বিভিন্ন সরকারি – বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং কিছু বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে বিশ্ব হাত ধোয়ার দিবস অনেক জায়গায় পালন করা হয় এবং হাত ধোয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই সচেতনতার ফলে আমরা অনেকটা লাভবান হতে পেরেছি।

সারা বিশ্বে অনেকাংশে কমেছে সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। 

তাই সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে সুস্থ সবল রাখার সহজ উপায়।


আরও পড়ুন – বায়ুদূষণ কমাবে কৃত্রিম পাতা

আরও পড়ুন – অর্থনৈতিক কোড সুমূহ 

আপনি যে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেলেন এই পোস্টটি থেকে তা হল – হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তাহাত ধোয়ার উপকারিতা, হাত ধোয়ার নিয়মহাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিহাত ধোয়ার গুরুত্ব ইত্যাদি।

আশা করি হাত ধোয়ার পদ্ধতি সম্পর্কিত এই পোস্টটি আপনার উপকারে এসেছে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

সবার উপকারের জন্য পোস্টটি শেয়ার করার অনুরোধ রইল।


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment