ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় নীতি

290
ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় নীতি
সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

আপনি কি অনলাইনে ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় নীতি, Aurangzeb Religious Policy  সম্পর্কে জানতে চাইছেন,

যদি তাই হয়, 

আপনি সঠিক পোস্টে এসেছেন।

আমার এই পোস্টটি ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় নীতির ( ইতিহাসের ) দারুন নোট।  আপনি পরীক্ষায় যদি এই নোটটি  লিখতে পারেন তাহলে আপনি ফুল মার্কস পাবেন।

পোস্টটিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

ঔরঙ্গজেবের ধর্মনীতি সম্পর্কে আলোচনা 

ঔরঙ্গজেব ছিলেন সুন্নি মুসলমান। তার ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস তার রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।

ভারতবর্ষকে ” দার উল ইসলামে ” পরিণত করাকে তিনি সমাজের নৈতিক ধর্ম ও কর্তব্য বলে মনে করতেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি আবু হানিফার ইসলামের ব্যাখ্যা ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় আইন কানুন রচনা করেন।

এক কথায় তিনি ভারতবর্ষকে ইসলামিক ধর্মাশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত করতে উদ্যোগী হন। ফলে আকবরের আমলে যে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির উদ্যোগ শুরু হয়েছিল তা সম্পূর্ণভাবে বর্জিত হয়।

ঔরঙ্গজেব ইসলামের অনুশাসন গুলি কঠোরভাবে মান্য করার নির্দেশ দেন। এর জন্য তিনি মুঘল দরবারে প্রচলিত বহু অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি বন্ধ করার আদেশ জারি করেন।

তাঁর নির্দেশে ” নওরোজ ” অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্রাটের জন্মদিনে তার দেহের ওজনের সমপরিমাণ সোনা রূপা দান করা প্রথা বন্ধ করা হয়। রাজদরবারে নিত্য গীত নিষিদ্ধ হয়।

অধিকাংশ গায়ক ও বাদকে দিল্লি পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়। জ্যোতিষীদের দিল্লি থেকে বিতাড়িত করা হয়। গণিকাদের তিনি বিবাহিত জীবন যাপনের নির্দেশ দেয়। মদ্যপান ও মদ্যতৈরী নিষিদ্ধ করা হয়।

পূর্বে হিন্দুদের ” দশহারা ” অনুষ্ঠানে সম্রাটরা যোগ দিতেন ঔরঙ্গজেব তাও বন্ধ করে দেন।

ইসলামের মন্ত্র ” কলমা ” যাতে বিধর্মীদের হাতে কলঙ্কিত না হয় সেজন্য তিনি মুদ্রার ওপর উৎকীর্ণ করা বন্ধ করে দেন। সম্রাট জনসাধারণকে যে ঝড়েকা দর্শন দিতেন ঔরঙ্গজেব তাও বন্ধ করেন।

পীর বা সন্ন্যাসী দের সমাধিস্থলে বাটি দেওয়ার বা দরবারে হিন্দু রাজা এলে তার কপালে চন্দন তিলক পরিয়ে তাকে বরণ করা রীতিও তিনি বন্ধ করেন। এইসব নির্দেশ ঠিকমত পালন হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী নিযুক্ত করেন।

ঔরঙ্গজেব ধর্মনীতির গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ।

আকবরের আমলে যে হিন্দু-মুসলমান সমন্বয় ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তার মূল কুঠারাঘাত করেন ঔরঙ্গজেব। হিন্দুদের ক্ষমতাহীন ও গুরুত্বহীন করার জন্য তিনি একের পর এক দমন-পীড়ন মূলক আইন জারি করেন।

তিনি হিন্দুদের দেওয়ালি, হোলি ও বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দেন। হিন্দুদের নতুন মন্দির নির্মাণ বা পুরনো মন্দির সংস্কার নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রাদেশিক শাসক দের নির্দেশ দেয়া হয় হিন্দু মন্দির বিদ্যালয় ধ্বংস করতে মন্দিরের স্থলে মসজিদ নির্মাণ কার্যকে উৎসাহিত করা হয়।

তার নির্দেশ মতে বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হয়। বারানসি বিশ্বনাথ মন্দির, সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করা হয়। 

ওরঙ্গজেব ১৬৭৯ সালে হিন্দুদের উপর জিজিয়া কর প্রবর্তন করেন।

ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহী হয় মথুরার জাঠ সম্প্রদায়। ঔরঙ্গজেবের ধর্মনীতির এর বিরুদ্ধে বুন্দেলখন্ডে বুন্দেলাগণ বিদ্রোহী হয়। 

পাটিয়ালা ও মেওয়াটের ” সৎনামী ”  গোষ্ঠীভুক্ত হিন্দুরাও ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

ঔরঙ্গজেব এর ধর্ম নীতির ফলে শিখ সম্প্রদায়ও বিদ্রোহ ঘোষণা করে। নবম শিখ গুরু তেগ বাহাদুর ঔরঙ্গজেব এর ধর্মনীতির প্রতিবাদ করেন। রাজপুত ও মারাঠা জাতীয় ঔরঙ্গজেব এর ধর্ম নীতিতে ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে।

এইভাবে ধর্মীয় অনুদারতা ঔরঙ্গজেব মোগল সাম্রাজ্যের পতনের ভিত্তি রচনা করে।


আরও পড়ুন ক্লিক করে –

জায়গীরদারি প্রথা 

নুরজাহান চক্র

শেরশাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা


আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনি –  ঔরঙ্গজেবের ধর্মীয় নীতি,ঔরঙ্গজেবের ধর্মনীতি সম্পর্কে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আশা করি ঔরঙ্গজেবের ধর্মনীতির  এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

আপনাকে জানাই অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here