বন্যা ও তার প্রতিকার

512
বন্যা ও তার প্রতিকার
সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

আপনি কি অনলাইনে বন্যা ও তার প্রতিকার রচনা, Bonna Rachana খুঁজছেন,

যদি তাই হয়, 

আপনি সঠিক পোস্টে এসেছেন।

আমি এই পোস্টটিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি – বাংলাদেশের বন্যা ও তার প্রতিকার রচনা,রচনা বন্যা সমস্যা ও তার প্রতিকার, বন্যার কারণ ও প্রতিকার ইত্যাদি।

আমার এই পোস্টটি বন্যার প্রতিকার রচনার দারুন নোট।  আপনি পরীক্ষায় যদি এই রচনাটি লিখতে পারেন তাহলে আপনি ফুল মার্কস পাবেন।

রচনার পোস্টটিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

বন্যা ও তার প্রতিকার রচনা 

ভূমিকা –

প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে যখন নদী-নালা, জলাশয় পুকুর খাল বিল জল ধারণ করতে অক্ষম হয়ে ওঠে তখনই বন্যার সৃষ্টি হয়।

প্রচন্ড বৃষ্টির ফলে সব নদী নালা, খাল বিল,  জলাশয় পুকুর দুকুল ছাপিয়ে প্রচণ্ড বেগে বয়ে যায়, গ্রাম-নগর ফসলের ক্ষেত সব ভাসিয়ে নিয়ে যায় প্রচণ্ড বেগের সাথে এই প্রবল জলোচ্ছাসের নামই বন্যা।

বন্যা যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

বন্যা হওয়ার কারণ 

গবেষকরা বন্যার কারণ বার করার জন্য অনেক গবেষণা করেছেন।

প্রচুর বৃষ্টিপাত, সমুদ্রের কুল ভাসানো প্রচণ্ড তরঙ্গ, নদীর তলায় জমে থাকা পলির ফলে নদীগর্ভে অল্প জল ধারণের ক্ষমতা এবং ভূপ্রকৃতিতে ভূমিকম্প জাতীয় আন্দোলনের সৃষ্টি এবং ভুল পূর্ণ নিষ্কাশন ব্যবস্থা হল বন্যার মূল কারণ।

এছাড়া একনাগাড়ে কয়েকদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলেও তখন বন্যার সৃষ্টি হয়।

কয়েকদিন ধরে মুষুলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে জলরাশি বিপদসীমা অতিক্রম করে চলে যায় তখন বাঁধ গুলি এবং জলাধার গুলিকে রক্ষা করার জন্য হাজার হাজার কিউসেক জল ছাড়তে হয় তখন গ্রাম নগরে বন্যার সৃষ্টি হয়।

বন্যার ফলে তখন মাইলের পর মাইল জমি ঘরবাড়ি ফসল সবই জলের তলায় চলে যায়।

আরও পড়ুন – চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা

আরও পড়ুন – ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা 

বর্ষা ও বন্যা

আমাদের দেশে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যা আমরা বর্ষাকাল বলে থাকি। এই বর্ষাকাল প্রখর গ্রীষ্মের পরই আসে।

আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যার প্রকোপ প্রচন্ড নেমে আসে তবে তা বেশিদিন থাকে না হঠাৎ চলেও যায়।

কিন্তু যাওয়ার পথে সে রেখে যায় মহাদেশের চিত্র অনেক মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা স্বপ্নের ধ্বংসাবশেষ।

বন্যার সুফল ও কুফল 

বন্যার কুফল দিক –

বন্যার তাণ্ডবের ফলে বাড়ি মাঠ-ঘাট সবই জলে ভরে যায়। চারি দিকে তাকালে শুধুই জল দেখতে পাওয়া যায়। মাইলের পর মাইল জুড়ে কেবল মাত্র প্রচুর জলরাশি ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না।

রাত্রিবেলায় আমরা যেখানে মানুষের ঘরবসতি দেখি সকাল বেলায় উঠে বন্যার তাণ্ডবে সেখানে দেখা যায় বিপুল জলাশয়।

বন্যার তাণ্ডবে মানুষের বসতি বাড়িগুলো ধ্বংস হওয়ার ফলে তখন মানুষের দিন কাটতে থাকে খোলা আকাশের নিচে অথবা গাছের ডালে, উঁচু কোন জায়গায় অথবা কারো পাকা বাড়ির ছাদের উপর, রেলের প্ল্যাটফর্ম এর ওপরে ইত্যাদি স্থানে।

বন্যার ফলে মানুষের পানীয় জলের অভাব দেখা যায়, বস্ত্রের অভাব দেখা যায়, খাদ্যের অভাব দেখা যায় ইত্যাদি।

বন্যার ফলে অনেক রকম রোগের সৃষ্টি হয়।

বন্যার সুফল দিক –

অতিরিক্ত বন্যা যেমন আমাদের প্রচুর ক্ষতি করে কিন্তু কম আকারের বন্যা আমাদের কিছু সুফল বয়ে নিয়ে আসে যেমন।

বন্যা শক্ত ও পতিত জমিতে জল সরবরাহ করতে সাহায্য করে। স্থলভাগ থেকে বছরের পর বছর যে জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে নিয়ে যায় এবং এই সমস্ত আবর্জনা গুলোকে পলি দ্বারা আবৃত করে মাটিকে করে তোলে উর্বর প্রকৃতির।

বন্যার জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যে ভূগর্ভের তলায় যায় তার ফলে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েল মিনি ইত্যাদিতে জলের অভাব হয় না।

যেমন বর্তমানে মিনির সাহায্যে বোরো ধান চাষ করা হয় সেই বোরো ধানে প্রচুর জল লাগে তা বন্যার ফলে সেই জল আমাদের মিনি থেকে ওঠে এবং জলের অভাব অতটা হয় না।

বন্যার প্রতিকার 

বলতে গেলে অতিরিক্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই অসম্ভব হয়ে পড়ে কিন্তু মানুষ যদি সচেষ্ট হয় তবে অনেকটা বন্যার এই তান্ডবকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে যেমন –

ঠিক সময়ে নদীর বুকে উঁচু করে বাঁধ দেওয়া এবং জোরালো বাঁধ নির্মাণের ফলে বর্ষার উচ্ছ্বসিত জলরাশি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে রাখা বন্যা প্রতিরোধে ভালো একটি উপায়।

এছাড়া বেশকিছু খাল খননের দ্বারা আমরা জল প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।

বর্ষাকালের অতিরিক্ত জল কে ধরে রাখার জন্য আমাদেরকে জলাধার নির্মাণ করতে হবে।

এছাড়া ভূমিক্ষয় রোধ এবং বৃক্ষরোপনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে আমাদের।

পরিশেষে একটা কথা বলা যায় আমাদের ধৈর্য বুদ্ধি ও প্রযুক্তিগত বিদ্যা কে কাজে লাগিয়ে এছাড়া সরকারের আর্থিক সহায়তা কেন্দ্র করে এবং জনসাধারণের সচেতনতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সকলকে।


আরও পড়ুন – দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ রচনা

আরও পড়ুন – প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ছাত্রসমাজ রচনা

আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনি –  বন্যা ও তার প্রতিকার রচনা, বন্যার সুফল ও কুফল  ও বন্যার প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আশা করি বন্যা রচনার এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

আপনাকে জানাই অনেক ধন্যবাদ বন্যা সমস্যা ও তার প্রতিকার রচনার পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here