নুরজাহান চক্র টিকা

পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনি কি অনলাইনে নুরজাহান চক্র টিকা, Nurjahan Chakra সম্পর্কে জানতে চাইছেন,

যদি তাই হয়, 

আপনি সঠিক পোস্টে এসেছেন।

আমি এই পোস্টটিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি – নুরজাহান চক্র,নুরজাহান চক্র কি, নুরজাহান শব্দের অর্থ কি ইত্যাদি।

আমার এই পোস্টটি নুরজাহান চক্রর ( ইতিহাসের ) দারুন নোট।  আপনি পরীক্ষায় যদি এই নোটটি  লিখতে পারেন তাহলে আপনি ফুল মার্কস পাবেন।

পোস্টটিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

নুরজাহান চক্র কি

জাহাঙ্গিরের অসুস্থতার সময় তার পত্নী নুরজাহান ধীরে ধীরে ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিলেন ।

এই উত্থানে তার সহায়ক ছিলেন তার পিতা মির্জা গিয়াস বেগ, ভাই আসফ খাঁ, শাহজাদা ও বিশিষ্ট অভিজাত মহবত খাঁ ।

এরা একত্রে নুরজাহান চক্র নামে অভিহিত হন। 

নুরজাহান চক্র

জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে নুরজাহানের বিশেষ প্রভাব দেখা যায়। ১৬১১ সালে তার সঙ্গে নুরজাহানের বিবাহ হয়। নুরজাহানের আসল নাম ছিল মেহেরউন্নিসা।

18 বছর বয়সে মেহেরউন্নিসার বিয়ে হয় আলীকুলি বেগ নামে এক মোগল মনসবদারের সঙ্গে। এই আলীকুলি বেগকে হত্যা করে জাহাঙ্গীর তার বিধবা পত্নী মেহেরউন্নিসাকে বিয়ে করেন। যিনি নুরজাহান বা জগতের আলো নামে পরিচিত।

সম্রাট জাহাঙ্গীরের উপর নূরজাহানের প্রভাব এর ফল সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। কিছুসংখ্যক ঐতিহাসিক মনে করেন যে সংস্কৃতি পরান নুরজাহানের সংস্পর্শে এসে জাহাঙ্গীরের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।

জাহাঙ্গীর ব্যক্তিগত জীবন যাপনে সংযমী হতে চেষ্টা করেন এবং সাম্রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তার সাহায্য পেয়ে তিনি সেগুলির ভালোভাবে সমাধান করতে সক্ষম হন। তার প্রভাবে জাহাঙ্গীর শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিকে অধিক মনোযোগী হন। নুরজাহান নারীদের মর্যাদা রক্ষা ও দীন দুঃখীদের দুর্দশা দূর করার জন্য সচেষ্ট হন।

ডক্টর আর পি ত্রিপাঠীর মতে জাহাঙ্গীরের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। তাই তিনি মনে করতেন যে অসুস্থ স্বামীর স্বার্থ দেখা তার কর্তব্য। দরবারে অনেক অভিযাত ছিল চক্রান্তকারী।

এমনকি খুররম ক্ষমতার জন্য লোভাতুর ছিলেন। এমত অবস্থায় সম্রাটের নামে তিনি শক্ত হাতে দরবারের হাল ধরার চেষ্টা করেন তারই চেষ্টাই খুররমের বিদ্রোহ দমিত হয় এবং সম্রাট মহাবত খাঁর হাতে বন্দিদশা হতে মুক্ত হন।

তাই ডক্টর ত্রিপাঠী বলেছেন যে যুক্তি দিয়ে বিচার করলে নুরজাহানকে জাহাঙ্গীরের সিংহাসন এর পশ্চাতে অশুভ শক্তি না বলে সৌভাগ্যসূচক শক্তি বলা হয়।

ডক্টর ঈশ্বরী প্রসাদ মন্তব্য করেছেন যে জাহাঙ্গীরের উপর তার এই বিরাট প্রভাব রাষ্ট্রের পক্ষে মঙ্গলজনক হইনি। কারণ তিনি তার স্বামীকে আরাম ও প্রমোদের পিচ্ছিল ও ধ্বংস কর পথে ঠেলে দিয়ে তাকে হাতের পুতুলে পরিণত করেন।

তারপর নিজও পিতা, ভ্রাতা, জামাতা, 6 ও 7 হাজার মনসবদার ও ক্ষমতা দিয়ে দরবারে নুরজাহান চক্র তৈরি করেন এবং দরবারের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন ফলে সভাসদরা তার খেয়াল খুশি মতো চলতে বাধ্য হয়।

তিনি খুররম কে প্রথমে নিজ পক্ষে আনার জন্য ভাতুষ্পুত্রী মমতাজের সঙ্গে বিয়ে দেন। কিন্তু তাকে বশ করা না গেলে তিনি শাহরিয়ারকে নিজও কন্যা লাভলী বেগমের সঙ্গে বিয়ে দেন। এবং তাকে পরবর্তীকালে সম্রাট করতে সচেষ্ট হয়। এইভাবে সাম্রাজ্যকে তিনি ভাতৃ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি কোন দক্ষ, স্বাধীনচেতা অভিজাত বা সেনাপতিকে সহ্য করতে পারতেন না এবং তাদের নানাভাবে অপদস্থ করতেন। এই ভাবে তার দুর্ব্যবহারে খুরম ও মহাবৎ খাশ বিদ্রোহ করেন। তাঁর চরিত্রে দাম্ভিকতা ও ক্ষমতালিপ্সা দেখা যায়।

তিনি দরবারে দল ও গোষ্ঠী তৈরি করে শাসন ব্যবস্থায় ঐক্য ও সংহতি নষ্ট করেন জাহাঙ্গীর তাঁর রাজত্বের গোড়ায় যে ন্যায় বিচার প্রবর্তন করেন সেই ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়। আগ্রার দরবার সন্ত্রাস, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও সন্ত্রাসকারীদের লীলাভূমিতে পরিণত হয়। এই ভাবে দেখা যায় যে তার ক্ষমতা প্রিয়তা এবং রাষ্ট্রের ব্যাপারে তার হস্তক্ষেপ সাম্রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হয়েছিল।


আরও পড়ুন ক্লিক করে – 

শেরশাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা

মনসবদারি প্রথা

দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা


আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনি –  নুরজাহান চক্র,নুরজাহান চক্র কি, নুরজাহান শব্দের অর্থ কি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আশা করি নুরজাহান চক্রর এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

আপনাকে জানাই অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment