Pranab Mukherjee Biography In Bengali

255
Pranab Mukherjee Biography In Bengali
সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

Pranab Mukherjee Biography In Bengali \ প্রণব মুখার্জির জীবনী 

আপনি কি Pranab Mukherjee Biography In Bengali / প্রণব মুখার্জির জীবনী  সম্পর্কে জানতে চান ?

যদি জানতে চান এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ুন। 

স্বাধীন ভারতে প্রণব মুখোপাধ্যায় একমাত্র বাংলার সন্তান দেশের সর্বোচ্চ ” রাষ্ট্রপতির আসনে ” বসেছিলেন।

পাঁচ বছর রাইসিনা হিলসের মালিক ছিলেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের গর্ব , বাংলার গর্ব।

প্রণব মুখার্জির জন্ম

১৯৩৫ সালে বীরভূম জেলার কীর্ণাহারের মিরাটি গ্রামে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এর জন্ম। 

তাঁর পিতার নাম হল – কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ও মাতার নাম হল – রাজলদী দেবী। 

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পিতা কামদাকিঙ্কর একজন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তাঁর পিতা ১৯২০ সাল থেকে জাতীয় কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। 

প্রণব মুখার্জির ছাত্র জীবন 

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রথমে তিনি গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

তাঁর বাড়ি থেকে হাইস্কুলের দূরত্ব ছিল প্রায় চার মাইল। তখন কোন রাস্তা ছিল না তাঁর স্কুলে যাওয়ার। 

রাস্তা হয়েছে ১৯৭৩ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় মন্ত্রী হওয়ার পর। 

টানা ৬ বছর ক্লাস ৫ থেকে ১০ তিনি চার মাইল হেঁটে স্কুলে গিয়েছিলেন জমির আল রাস্তা দিয়ে। 

বর্ষার সময় তিনি একটি করে গামছা পড়তেন আর প্যান্ট শার্ট একটি ব্যাগের ভেতর পুরে নিয়ে মাথায় আর একটি গামছা দিয়ে বেঁধে স্কুলে চলতেন।

প্রায় ২ মাইল পরে আবার হাত পা ধুয়ে প্যান্ট শার্ট পরে স্কুলের পথে রওনা দিতেন। তিনি জুতো পড়তেন শুধু শীতকালে আর গ্রীষ্মকালে। 

প্রণব মুখোপাধ্যায় ১৯৫২ সালে স্কুল ফাইনাল পাশ করেন। 

বিদ্যালয়ের পর তিনি সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে তিনি স্নাতক পাশ করেন।

তারপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন নিয়ে পাশ করেন।

প্রণব মুখার্জির বিবাহ জীবন 

১৯৫৭ সালে ১৩ ই জুলাই বাংলাদেশের ভদ্রবিলা গ্রামের কন্যা শুভ্রা মুখোপাধ্যায় এর সঙ্গে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিবাহ হয়। 

বর্তমানে তাঁদের দুই পুত্র ও এক মেয়ে। প্রথম পুত্র – অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় তিনিও একজন সাংসদ ছিলেন। দ্বিতীয় পুত্র হলেন – ইন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায়। তাঁর একমাত্র কন্যা হল – শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। তিনি বর্তমানে কংগ্রেসের মহিলা শাখার অন্যতম পদে নেতৃত্বে রয়েছেন।

প্রণব মুখার্জির কর্মজীবন

কর্মজীবনের শুরুতে কলকাতার ডাকবিভাগের করণিক পদে যোগ দেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার বাঁকড়া স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৬৩ সাল থেকে – ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিদ্যাসাগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

প্রণব মুখার্জির রাজনৈতিক জীবন

১৯৬৭ সালে বিধানসভার ভোটে তাঁর কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রনাথ মজুমদার প্রার্থী হন। তাঁকে জেতাতে পথে নামেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তখন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ইন্দিরা গান্ধীর চোখে পরেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে দলে যোগদান করান।

১৯৬৯ সাল

১৯৬৯ সালে বাংলা কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য পদে টিকিট পান। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালে পরপর রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সাল

১৯৭১ সালে তিনি প্যারিসে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করেন।

১৯৭৩ সাল

১৯৭৩ সালে তিনি কেন্দ্রীয় শিল্প উন্নয়ন উপমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ক্যাবিনেটে যোগদান করেন।

১৯৭৫ সাল

১৯৭৫ সালে তিনি দ্বিতীয়বার কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন।

১৯৭৭ সাল

১৯৭৭ সালে প্রণব মুখার্জি লোকসভার ভোটে কংগ্রেসের হয়ে মালদহ থেকে লড়ে হেরে যান।

১৯৮০ সাল

১৯৮০ সালে তিনি লোকসভার ভোটে কংগ্রেসের হয়ে বোলপুর থেকে লড়ে হারলেও ইন্দিরা মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যসভার কংগ্রেসের দলনেতা নির্বাচিত হন।

১৯৮২ – ৮৪ সাল

ইন্দিরা গান্ধী সরকারের অর্থমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন।

১৯৮৬ সাল

রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিরোধের জেরে কংগ্রেস থেকে বহিস্কৃত হন। রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস গঠন।

১৯৮৯ সাল

কংগ্রেসে আবার প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৯১ – ৯৬ সাল

প্রণব মুখোপাধ্যায় যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন।

১৯৯৫ – ৯৬ সাল

কেন্দ্রে নরসিংহ রাওয়ের মন্ত্রীসভায় তিনি বিদেশমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন।

২০০৪ – ০৬ সাল

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে লোকসভার সাংসদ হয়ে মনমোহনের মন্ত্রীসভায় প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন।

২০০৬ – ০৯ সাল

মনমোহনের মন্ত্রীসভায় বিদেশমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন।

২০০৯ – ১২ সাল

তিনি দ্বিতীয়বার মনমোহনের মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন।

প্রণব মুখার্জির পুরস্কার লাভ

২০০৮ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় পদ্মষিভূষণ পুরস্কার পান।

২০০৯ সালে বিজেপি সরকারের আমলে তিনি ” ভারতরত্ন ” পুরস্কার পান অর্থাৎ তাঁকে ভারতরত্নে ভূষিত করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

প্রণব মুখার্জির রাষ্ট্রপতি জীবন

২০১২ সালের ২২ শে জুলাই দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত ঘটিয়ে ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হওয়ায় কৃতিত্ব অর্জন করেন।

এরপর ২০১৭ সালের ২৪ শে জুলাই পর্যন্ত যথাযোগ্য মর্যাদায় নিজের সাংবিধানিক প্রধানের পদ সামলে দিয়েছেন।

যখনই দেশ জুড়ে অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখনই প্রণব মুখোপাধ্যায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সাবধান করেছেন সরকার ও দেশবাসীকে।

যখন তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসেছিলেন তখন তিনি একজন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তি হয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব সামলে গিয়েছেন।

প্রণব মুখার্জির মৃত্যু 

২০২১ সালের ৯ ই আগস্ট রাতে বাথরুমে পরে গিয়ে মাথায় চোট পান। পরের দিন ১০ ই আগস্ট সকালে চিকিৎসার জন্য দিল্লির সেনা হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। 

সেখানে নানা পরীক্ষায় রক্ত জমাট বাঁধার পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। রাতে অস্ত্রপ্রচার করা হয়।

টানা ২২ দিন লড়াই শেষে ২০২১ সালের ৩১ শে আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা নাগাদ তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


আরও পড়ুন – নেতাজির জীবন কাহিনী

আরও পড়ুন – মাদার তেরেসার জীবনী 

আশা করি আপনি Pranab Mukherjee Biography In Bengali / প্রণব মুখার্জির জীবনী বাংলায় পড়ে আপনি খুশি হয়েছেন। 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এর জীবনীকে পড়ার জন্য। 

প্রণব মুখার্জির সুন্দর নিরপেক্ষ জীবনীকে ফেসবুকে বন্ধু – বান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

পোস্টটি শেয়ার করুন নিচে ক্লিক করে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here