Rabindranath Thakur Jiboni Bangla

পোস্টটি শেয়ার করুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী বাংলায়। Rabindranath Thakur Jiboni Bangla।

সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

তাড়াতাড়ি দেখুন

Rabindranath Thakur Jiboni Banglaরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী বাংলায়

” মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক ” –

একথা যিনি কাব্যে কবিতায়, গানে গানে প্রাণে প্রাণে সঞ্চার করেছিলেন তিনিই বাংলা সাহিত্যের  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

ইংরেজি সাহিত্যে যেমন শেক্সপিয়ার, ফরাসি সাহিত্যে যেমন ভিক্টর হুগো, ইতালি সাহিত্যে যেমন দান্তে তেমনি বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এই পৃথিবীর আকাশ, বাতাস, মাটি ও মানুষ সকলকে তিনি প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন তাই তিনি বিশ্বকবি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তারিখ 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছিল ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ আর ইংরেজির সাল হিসাবে ১৮৬১ সালের ৭ ই মে। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা মায়ের নাম  

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতার নাম সারদা দেবী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে শিক্ষাগত যোগ্যতা 

রবীন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে অল্পদিন পড়াশোনা করলেও অনেক গৃহশিক্ষক তাঁকে নিয়মিত পড়াতেন। ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে কিছুদিন তিনি পড়াশোনা করেছিলেন।

ব্যারিস্টার পড়ার জন্য তাঁর অভিভাবকেরা তাঁকে ১৭ বছর বয়সে বিদেশে পাঠান। দেড় বছর ইংল্যান্ডে থেকে তিনি দেশের প্রকৃতির বুকে ফিরে আসেন। ব্যারিস্টার পড়াশোনা তাঁর শেষপর্যন্ত হয়নি। 

১৮৮৪ সালে তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ তাঁকে জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। জমিদারি দেখাশোনা করতে গিয়ে পদ্মালালিত বিরাট এক জনপদের সাথে পরিচিত লাভ হয়। বিশ্বকবির জীবনে পদ্মালালিত জনপদের প্রভাব অনেকখানি।

কবিত্ব / সাহিত্যের নানা দিক

শৈশব থেকেই তিনি কবিতা লিখতেন। কম বয়সেই তাঁর লেখা কবিতা, নাটক প্রকাশিত হয়। তিনি সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখতে শুরু করেন মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু কবিতা লিখতেন না এর সাথে তিনি গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য ও সংগীত ইত্যাদি লেখাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে লেখা কাব্যগ্রন্থ

‘ বনফুল ‘, ‘ কবি কাহিনী ‘ এবং ‘ ভানুসিংহের পদাবলী ‘ এগুলো তাঁর যৌবনে লেখা কাব্যগ্রন্থ। তিনি যখন ইংল্যান্ডে থাকতেন সেই সময় ‘ ভারতী ‘ পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘ য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র ‘ প্রকাশিত হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গল্প 

তাঁর লেখা কয়েকটি গল্প পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্প হিসেবে বিবেচিত হয় যেমন – ‘ কাবুলিওয়ালা ‘, ‘ খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ‘, ‘ গুপ্তধন ‘, ‘ পোস্টমাস্টার ‘, ‘ দেনা পাওনা ‘, ‘ ক্ষুধিত পাষাণ ‘ ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস

এছাড়া তাঁর লেখা কয়েকটি উপন্যাসের তুলনা হয় না যেমন – ‘ নৌকাডুবি ‘, ‘ চোখের বালি ‘, ‘ গোড়া ‘, ‘ রাজর্ষি ‘ ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নাটক 

তাঁর লেখা ‘ বিসর্জন ‘, ‘ রাজা ও রানী ‘, ‘ রক্তকরবী ‘, ‘ ডাকঘর ‘, ‘ অচলায়তন ‘ ইত্যাদি নাটকের সঙ্গে ‘ শ্যামা ‘, ‘ চিত্রাঙ্গদা ‘, ‘ চণ্ডালিকা ‘ ইত্যাদি নৃত্যনাট্যের রচয়িতা হিসেবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজও জনপ্রিয়।

তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিভার সবিশেষ বিকাশ ঘটেছিল কবিতা ও সংগীতের মধ্য দিয়ে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার

১৯১৩ সালে তাঁর কবি প্রতিভা বিশ্বসভায় মর্যাদা লাভ করে এবং ১৯১৩ সালে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে ” নোবেল পুরস্কার ” পান।

” নোবেল পুরস্কার ” পাওয়ার সাথে সাথে তিনি বিশ্বজুড়ে অনেক সম্মান পান।

দেশে দেশে, বিদেশে বিদেশে তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ ও সাহিত্যের অনুবাদ শুরু হয়ে যায়। যা আজও চলে আসছে।

ইংরেজ সরকার তাঁকে ” নাইট উপাধি ” দিয়ে সম্মানিত করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ প্রেম

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের দেশকেও অনেক ভালোবাসতেন। বঙ্গভঙ্গের সময় তিনি শুধুই সভায়, মিছিলে দেশপ্রমের গানগুলো গাননি, তাঁর গানগুলো দেশপ্রেমিকদের কণ্ঠে কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল।

তিনি জালিয়ান ওয়ালাবাগের  হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ স্বরূপ তাঁর সম্মানিত ইংরেজদের দেওয়া ” নাইট উপাধি ” ত্যাগ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেশের দেশের কৃষি ও কুটিরশিল্পের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বোলপুরের অনতিদূরে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীনিকেতন।

এছাড়া তিনি বোলপুরে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বোলপুরে শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষাদানের এক অভিনব পদ্ধতি চালু করেন।

আরও পড়ুন – পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু দিন 

৮০ বছর বয়সে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শে শ্রাবণ ( ইংরেজির ১৯৪১ সালের ৮ ই আগস্ট ) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইহলোক ত্যাগ করেন।

উপসংহার

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার বলেছিলেন দেশপ্রেম ভালো কিন্তু উগ্র দেশপ্রেম অন্য দেশের অথবা সারা বিশ্বের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গান ভারতের জাতীয় সংগীত হয়েছে। এছাড়া তাঁর রচিত অন্য একটি গান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

আশা করি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী বাংলায়, Rabindranath Thakur Jiboni Bangla পড়ে আপনার খুব ভালো লেগেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনীকে আপনার বন্ধু – বান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।  


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment