সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ রচনা

পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনি কি অনলাইনে সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ রচনা, সাম্প্রদায়িকতা রচনা খুঁজছেন,

যদি তাই হয়, 

আপনি সঠিক পোস্টে এসেছেন।

আমার এই পোস্টটি সাম্প্রদায়িকতা রচনার দারুন নোট।  আপনি পরীক্ষায় যদি এই রচনাটি লিখতে পারেন তাহলে আপনি ফুল মার্কস পাবেন।

সাম্প্রদায়িকতা রচনার পোস্টটিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

ভূমিকা

আমাদের দেশ নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের ভাষার মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এত পার্থক্য থাকা সত্বেও আমরা এক সূত্রে মিলিত।

সাম্রাজ্যবাদী শাসকের ষড়যন্ত্রে আমাদের সেই জাতীয় ঐক্য ধীরে ধীরে বিভক্ত হতে চলেছে। আজও একবিংশ শতাব্দীতে স্বার্থপরতার হীন ষড়যন্ত্রে জাতির ঐক্য নষ্ট হয়েছে।

আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিরোধ দেখা যাচ্ছে। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিরোধ দেখা দিয়েছে উন্নত অনুন্নত সম্প্রদায়ের মধ্যে।

এই পরিপেক্ষিতে ছাত্রদের কি করা দরকার তা ভেবে দেখবার সময় চলে এসেছে।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও ছাত্রসমাজ

আমাদের দেশ এক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র অর্থাৎ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসের অধিকার আছে।

আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের শান্তিতে বসবাস করার অধিকার দিয়েছে কিন্তু আজ সেই শান্তি নষ্ট হতে চলেছে।

স্বার্থের চক্রে অশান্ত ঘূর্ণিতে মানুষ আজ আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত। এমন অবস্থায় ষড়যন্ত্রকারীকে প্রতিরোধ করতে পারে কে ? সে শক্তি ও সাহসের অধিকারী আমাদের ছাত্রদল ষড়যন্ত্রকারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

কারণ ছাত্ররা অফুরন্ত প্রাণ-প্রাচুর্যে পূর্ণ তাদের রক্ত টগবগ টগবগ করে ফুটছে তাদের হৃদয়ে ভয় নাই।

১৯৪৭ সালে ঐতিহাসিক মিছিলে অগণিত ছাত্র বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেছিল – ” ভাই এ ভাই এ লড়ব না, দাঙ্গা করে মরব না “।

ছাত্ররাই বলতে পেরেছিল – ” মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে বিংশ শতাব্দীর ” । আজও তারা প্রতিবাদের ভাষা গর্জে তুলে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে। সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিকে দূরে সরিয়ে দিয়ে শান্তির পথ রচনা করতে।

গণতন্ত্রের ভূমিকা

১৯৮৪ সালে ইন্দ্রিরা গান্ধির মৃত্যুতে শিখ সম্প্রদায়ের ওপর যখন আক্রোশে শুরু হয়, সাম্প্রদায়িকতার চেহারা নিতে শুরু করে তখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জাগ্রত করতে ভূমিকা নেয় বাংলার ছাত্রসমাজ।

রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ বিতর্কে যখন ভারতের মানুষ বিভক্ত তখনও ছাত্রসমাজ বড় ভূমিকা নেয় এবং উচ্চারণ করে – ” আমাদের সংস্কৃতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি “।

আজ ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িকতার যে কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে তাতে ভয়ের কারণ আছে।

তাই এখন ছাত্র দল নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে থাকতে পারে না কারণ এই অবস্থায় ছাত্রদলের ভূমিকা অনেক।

সাম্প্রদায়িকতার দায়িত্ব

আজকের যে ছাত্রসমাজ ভবিষ্যতে তারা রাষ্ট্রপরিচালক, জাতির ভবিষ্যৎ, –  তাই প্রথম থেকেই এমন একটা জটিল ব্যাধি সম্পর্কে সম্যক অবহিত হয়ে থাকা জরুরী। দেশের সমস্যা‌ সম্বন্ধে ছাত্রদেরকে অবহিত হতে হবে।

সাম্প্রদায়িকতার বীজ উপড়ে ফেলার জন্য প্রয়োজন মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতি আর এই দায়িত্ব একমাত্র ছাত্ররাই নিতে পারে।

রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বোধ প্রথম থেকে জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রচার করতে হবে আমাদের শুধু একটি পরিচয় আমরা এদেশের মানুষ।

বর্তমানে আমাদের দেশে যে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করার জন্য ছাত্র দের উচিত সকল সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে এর উপযুক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এমন ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টির জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

গ্রামে গ্রামে, অঞ্চলে অঞ্চলে এলাকার সমস্ত ধর্মের মানুষদের নিয়ে সংহতি সম্প্রীতির জন্য আলোচনা সভা করতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে হিংসায় দাবি আদায়ের একমাত্র পন্থা নয়।

প্রতিকারের পথ উপসংহার

পাড়ায় পাড়ায় শান্তি মিছিল করে ধর্মের উন্মাদনার খারাপ দিক বোঝাতে হবে সাধারণ মানুষদের।

সামান্য হাঙ্গামা ও গুজব ছড়িয়ে পল্লী তা প্রতিরোধ করতে ছাত্রদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এগুলো হলো ছাত্রদের প্রত্যক্ষ কর্তব্যের পথ নির্দেশিকা।

ছাত্রদের পরোক্ষ কর্তব্য হলো সমস্ত জনগণের মধ্যে নিরক্ষতা দূরীকরণ করে তাদেরকে কুসংস্কারের পথ থেকে তুলে আনা। এর জন্য ছাত্রেরা অবসর সময়ে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও নৈশ পাঠশালা খুলে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারে।

মহাপুরুষের বাণী দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে বিজ্ঞান চেতনার প্রসার ঘটাতে হবে।


আরও পড়ুন ক্লিক করে – 

বিজ্ঞানের অপব্যবহার রচনা

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা

মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা প্রবন্ধ রচনা


আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনি –  সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ রচনা, সাম্প্রদায়িকতা রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আশা করি সাম্প্রদায়িকতা রচনার এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

আপনাকে জানাই অনেক ধন্যবাদ রচনার এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment