ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব রচনা

55
ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব রচনা

আপনি কি অনলাইনে ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব রচনা খুঁজছেন,

যদি তাই হয়, 

আপনি সঠিক পোস্টে এসেছেন।

আমার এই পোস্টটি ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনার দারুন নোট।  আপনি পরীক্ষায় যদি এই রচনাটি লিখতে পারেন তাহলে আপনি ফুল মার্কস পাবেন।

ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্বর পোস্টটিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

ভূমিকা

মানুষ সামাজিক জীব। আর আমাদের ছাত্রগণও এই সমাজের সাথে যুক্ত।

তাই যে সমাজে তারা বেড়ে উঠেছে সেই সমাজের উন্নতি ও কল্যাণ বিধানের স্বার্থে সেবায় অংশগ্রহণ করা তাদের ও কর্তব্য ও দায়িত্ব।

ছাত্ররা সামাজিক দায় দায়িত্ব তারা এড়িয়ে যেতে পারে না। সামাজিক জীব হিসেবে ছাত্রদের সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমাজসেবার বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে।

সমাজ ও ছাত্রদের শিক্ষা

ছাত্র দের জীবন হলো কর্মজীবনের মূল অংশ। ছাত্র জীবন হলো ভবিষ্যতের প্রস্তুতি কাল।

সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে উদাসীন থেকে শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের কাজে মন দিলে হবেনা। শিক্ষালাভের চরম লক্ষ্য হল মনুষ্যত্বের বিকাশ।

মনুষত্বের উপযোগী গুণ অর্জন না করে শুধু বুদ্ধিবৃত্তিকে বিকশিত করলে শিক্ষালাভের সেই চরম লক্ষ্য সাধন সম্ভব হয়ে উঠবে না।

সুতরাং ছাত্রদের জীবনকে পরিপূর্ণ করতে চাইলে কেবল বইয়ের ভেতর তাদের আটকে রাখলে হবে না। ছাত্রদেরকে বাস্তবের সঙ্গে তাদের যোগ সাধন করে দিতে হবে। ছাত্র জীবন থেকেই বহুমুখী সমাজ কল্যাণমূলক কাজে তাদেরকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন ক্লিক করে – বাংলা অনুচ্ছেদ লেখার নিয়ম 

সামাজিক সংকট ও ছাত্রসমাজ

উন্নত এবং অনুন্নত সব দেশগুলিতে ছাত্ররা সমাজসেবার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের ভারতবর্ষের মতো উন্নয়নশীল দেশে সমাজকল্যাণ মুখি কর্মযজ্ঞের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। সমাজের নানা স্তরে দারিদ্র ও অজ্ঞতা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, অস্পৃশ্যতা ইত্যাদি ছেয়ে ফেলেছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন খরা, বন্যা ইত্যাদি আছে।

এই সমস্ত কাজ সমস্যার সমাধানে ছাত্রদের অংশগ্রহণ বর্তমানে খুবই জরুরী। এসব ক্ষেত্রে ছাত্রেরা সংগঠিতভাবে সমাজ সেবায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

সমাজকল্যাণে কি কি কাজ করা যায়

আমাদের মত বিশাল একটি দেশের সার্বিক উন্নতি সাধনে একমাত্র সরকারি প্রচেষ্টা ওপর নির্ভর করলে হবেনা।

ছাত্রদেরকে সংগঠিতভাবে সমাজসেবায় নিজেদেরকে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে হবে। ছাত্ররা জনসভা, পথসভা, শোভাযাত্রা করে দেশের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রতিরোধ করতে পারে। আমাদের দেশকে যে নিরক্ষরতায় ঘিরে ফেলেছে সেই নিরক্ষরতা দূর করতে হলে ছাত্ররা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।

এছাড়া অবৈতনিক নৈশবিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে ছাত্ররা নিরক্ষর বয়স্কদের প্রাথমিক শিক্ষা দান করতে পারে। এছাড়া যে সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন খরা, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনসাধারণের দিকে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে।

এছাড়া তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় রাস্তা নির্মাণ, খনন, জঙ্গল পরিষ্কার প্রভৃতি পুনর্গঠন মূলক কাজে নিজেদের কে নিয়োগ করতে পারে।

উপসংহার

ছাত্ররাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ, আশা-ভরসা। তারাই আমাদের দেশের শক্তি ও বল তাদের কাছে আছে মহৎ আদর্শ।

নির্ভার, ক্ষুদ্র স্বার্থ মুক্ত ছাত্রজীবনই সমাজসেবার কাজে অংশগ্রহণ করার প্রশস্ত কাল।

তাই সমাজসেবার আদর্শকে গ্রহণ করে ছাত্ররাই উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।


আরও পড়ুন ক্লিক করে –

বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু রচনা

নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্র সমাজের ভূমিকা রচনা

সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ রচনা


আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনি –  ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আশা করি ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনার এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

আপনাকে জানাই অনেক ধন্যবাদ রচনার এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here