কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম

পোস্টটি শেয়ার করুন

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম – গুলোর চিত্র  কেমন হবে তা জানতে আমরা সবাই আগ্রহী ।

তাই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন ।

২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম আসর বসবে কাতারে। বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও তিন বছর বাকি। তবে তার অনেক আগে থেকেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কাতার। 

ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর আয়োজন নিয়ে সজাগ তারা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জাঁকজমক পূর্ণভাবে আয়োজিত হতে চলেছে আসন্ন এই আসর। 

এমনটাই জানিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির আল খাতের। 

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ আমরা অনন্য এক বিশ্বকাপের আয়োজনে করতে চলেছি। এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ‘।

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম – গুলো অতি সুন্দর ভাবে সাজাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি । 

 প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই সুবাদে স্টেডিয়ামের টিকিট সুলভ মূল্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি। 

৮ টি ভেনু্তে ৬৪ টি ম্যাচ হবে এই বিশ্বকাপে।

রাশিয়া, ব্রাজিল বিশ্বকাপের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি খরচ করেছে কাতার।

আল খোর স্টেডিয়াম

সমুদ্র উপকূলে পড়ে থাকা শামুকের আদলের আল খোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে তারা। যার অবস্থান কাতারের রাজধানী দোহা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে। যেখানে ৪৩ হাজারের বেশি দর্শক একসঙ্গে বসে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে পারবে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে কাতার যেসব স্টেডিয়াম তৈরি করেছে, তার মধ্যে আল খোর স্টেডিয়াম একটি। 

কাতার বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম

১২ টি স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে। কোনওটি সামুদ্রিক নৌকার, কোনওটি ঝিনুক, কোনওটি মরুদ্যানের নকশার আদলে। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম – গুলো দর্শকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিন্দু হতে চলেছে ।শুধু বাইরের চাকচিক্য নয়, এসব স্টেডিয়ামের ভিতরেও থাকছে অভিনবত্ব। খেলোয়াড় আর দর্শকদের জন্য আরামদায়ক আবহাওয়া নিশ্চিত করবে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। 

এই জন্য ব্যবহার করা হবে সৌরশক্তি। 

শুধু স্টেডিয়াম নির্মাণ বাবদই কাতার ১ হাজার কোটি ডলার বা ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। 

স্টেডিয়ামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন শহর। নির্মাণ করা হচ্ছে শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, পার্কিং আর সড়ক ও আকাশপথে যাতায়াত ব্যবস্থা।

সবমিলিয়ে খরচের অঙ্কটা কপালে চোখ তুলে দেওয়ার মতো। 

২০ হাজার কোটি ডলার বা ১৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতার। 

যেখানে ১৪০০ কোটি ডলার খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল রাশিয়া আর ব্রাজিল। নিঃসন্দেহে বলা যায় এমন আয়োজন ফুটবল পিপাসুরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে।

আল বায়াত স্টেডিয়াম ( কাতার )

হাতে এখনও আড়াই বছর। বিশ্বকাপের দামামা বেজে যাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে সেজে উঠেছে কাতার। আর সেই সৌন্দর্য নতুন করে শোভাবর্ধন করছে কাতারের উওর দিকের শহর আল খোর এর আল বায়াত স্টেডিয়াম

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম – গুলোর মধ্যে আল খোর এর আল বায়াত স্টেডিয়াম একটি অন্যতম ।

আল বায়াত স্টেডিয়াম

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের পরই শুরু হয়েছিল কাতারের এই স্টেডিয়ামের কাজ।

আল বায়াত স্টেডিয়াম টি  চট করে দেখলে বোঝা যাবে না, এটি কোনও স্টেডিয়াম। দেখলে মনে হবে একটি ঝাঁ চকচকে হোটেল। 

 যেখানে রয়েছে বিলাশবহুল কামরা। স্টেডিয়াম ভাড়া নিয়েই ফুটবল ম্যাচ দেখতে পাওয়া যেতে পারে। যে রুমগুলি রয়েছে, সেগুলি রীতিমতো স্যুট। একটি দুর্দান্ত বারান্দা রয়েছে ঘরগুলো থেকে। 

যে রুমগুলি রয়েছে, সেগুলি রীতিমতো স্যুট। একটি দুর্দান্ত বারান্দা রয়েছে ঘরগুলো থেকে।

সেখান থেকে ৩৬০° কোণ করে পুরো সবুজ মাঠটাকে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে। চারপাশে ধূ – ধূ মরুভূমি। মানে, অনেকটা ফাঁকা জায়গা।

তারই মধ্যে আল বায়াত স্টেডিয়ামকে দেখলে মনে হবে যেন মরুভূমির বুকে গজিয়ে ওঠা কোনও এক সাততারা হোটেল কিংবা মরুভূমে মরুদ্যান। 

কিন্তু এতটা ফাঁকা জায়গার মধ্যে স্টেডিয়াম হওয়া সত্ত্বেও স্টেডিয়ামের মধ্যে কোনও কিছুরই কোনও অভাব নেই।

ফুটবল দর্শকরা ম্যাচ দেখার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের মধ্যে বাকি সময়টাও কাটিয়ে নিতে পারেন।

সেখানে রয়েছে একটি বিশালকৃতির পার্ক ও একটি কৃত্রিম সরোবর। সরোবরটি একেবারে ছবির মতো। 

যখন স্টেডিয়ামটি প্রথম তৈরি হয় তখন তার ক্যাপাসিটি ছিল পঁয়তাল্লিশ হাজার। 

কিন্তু স্টেডিয়ামের আপার টিয়ারটি পুরো ভেঙে নতুন করে তৈরি করার পর স্টেডিয়ামের দর্শক সংখ্যা এখন ষাট হাজার।

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম – গুলোর মধ্যে অনেকটাই তৈরি হয়ে গিয়েছে আল বায়াত স্টেডিয়াম। 

স্টেডিয়ামটা দূর থেকে দেখলে মনে হবে একেবারে একটা ক্যানভাসের মতো। যার অনেকটা অংশ কৃষ্ণবর্ণে শোভিত, কিছুটা হালকা বাদামি, আর তার সঙ্গে সাদা স্ট্রিপস।

২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের কয়েকটি ম্যাচের সঙ্গে একটি সেমিফাইনালও আয়োজিত হবে এই ঝাঁ – চকচকে স্টেডিয়ামে।

 ৭৭০ মিলিয়ন ইউরোয় তৈরি হয়েছে কাতারের এই আল বায়াত স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামের কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় পঁচানব্বই শতাংশ তৈরি হয়ে গিয়েছে। 

শুধু ফিনিশিং টাই বাকি আছে। কাতারের এই ফুটবল স্টেডিয়ামের কর্তৃপক্ষ মনে করছে ডিসেম্বরেই খুলে দেওয়া হবে আল বায়াত স্টেডিয়াম

এখন নতুন এই স্টেডিয়ামের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

আল বায়াত স্টেডিয়াম – কী কী আছে

১. বিশালাকার হোটেল স্যুট।

২. বৃহৎ বারান্দা।

৩. বারান্দার যে কোন স্থান থেকে ৩৬০° কোণে দেখা যায় গোটা ফুটবল মাঠ।

৪. বাইরে ফুটবল দর্শক ও সাধারণ পর্যটকদের জন্য রয়েছে সাজানো পার্ক।

৫. সুন্দর একটি কৃত্রিম পার্ক।

৬. স্টেডিয়াম তৈরির খরচ ৭৭০ মিলিয়ন ইউরো।

৭. দর্শকাসন ৬০০০০।

আরও পড়ুন – ২০২০ আইসিসি টি ২০ বিশ্বকাপ

আশা করি কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ স্টেডিয়াম – গুলো সম্পর্কে জেনে আপনারাও খুব ভালো লেগেছে ।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি পড়ে আনন্দ পেলে বন্ধু – বান্ধবের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment