ভারতের জাতীয় পতাকা। প্রতীক। সঙ্গীত।

পোস্টটি শেয়ার করুন

ভারতের জাতীয় পতাকা। ভারতের জাতীয় প্রতীক। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত।

 আমরা যারা ভারতবাসী আমাদের একান্ত কর্তব্য ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক , জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে জেনে রাখা।

পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের একটি করে নির্দিষ্ট পতাকা আছে। তেমনি ভারতবর্ষেরও একটি নির্দিষ্ট পতাকা আছে। 

আপনি প্রথমে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ভারতের জাতীয় পতাকার রঙ কয়টি ও কি কি

চতুর্ভূজাকৃতি এই পতাকাটির উপরে গেরুয়া, মাঝে সাদা ও নীচে গাঢ় সবুজ রং রয়েছে। সাদা রঙের মাঝে একটি চক্র আছে।

ভারতের জাতীয় পতাকার নকশাটি ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক সভায় অনুমোদিত হয়। এর নকশাটি করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের পিঙ্গলি বেঙ্কাইয়া।

ভারতের জাতীয় পতাকার তিনটি রঙের অর্থ

পতাকাটির উপরে অবস্থিত গেরুয়া রং ত্যাগ ও ধৈর্য্যের প্রতীক। 

নীচের গাঢ় সবুজ রঙটি নির্ভীকতা, কর্ম শক্তি ও জীবন বোধের প্রতীক।

এবং মাঝের সাদা রংটি শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক। 

পতাকাটির মাঝে অবস্হিত চক্রটি হল উন্নতি ও প্রগতির প্রতীক।

আরও পড়ুন ক্লিক করে – ভারতের জাতীয় জিনিসের নাম

ভারতের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্তের অনুপাত

ভারতের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্তের অনুপাত ৩:২ । 

পতাকাটি শুধুমাত্র খাদি কাপড়ের হবে। জাতীয় পতাকার ব্যবহার সরকারি নিয়ম-কানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস

১৯৫০ সালের প্রতীক ও নাম ( অনুচিত ব্যবহার প্রতিরোধ ) আইন এবং ১৯৭১ সালের ‘ জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ ‘ আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে নতুন ‘ ভারতের পতাকা ‘ বিধি অনুযায়ী ১৯৫০ এবং ১৯৭১ সালের আইনের আওতায় সাধারণ মানুষ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির জাতীয় পতাকা ব্যবহারের উপর বিধি – নিষেধ তুলে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন ক্লিক করে – ভারতের হাইকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

ভারতের জাতীয় প্রতীক

ভারতের জাতীয় প্রতীক – টি সিংহ চিহ্নিত অশোক স্তম্ভ।

সারনাথের সিংহ চিহ্নিত অশোক স্তম্ভ থেকে নেওয়া হয়েছে। আসল অশোক স্তম্ভটি সারনাথ মিউজিয়ামে রাখা আছে।

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত প্রজাতন্ত্র হিসাবে ষোষিত হওয়ার সময় সরকারিভাবে এই প্রতীকটি নেওয়া হয়। সারনাথের মূল অশোক স্তম্ভে ৪ টি সিংহ পিঠে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

নীচের আধারটিতে হাতি, ছুটন্ত ঘোড়া, ষাঁড় এবং সিংহের রিলিফ রয়েছে। তবে এই চারটি প্রাণীর রিলিফকে পৃথক করতে তাদের মাঝে পদ্মের উপর চক্র আছে।

একটি গোটা বেলেপাথর খোদাই করে তৈরি ওই অশোক স্তম্ভে একেবারে শীর্ষে রয়েছে ধর্মচক্র। 

একেবারে নীচের মূল ফলকে দেবনাগরী হরফে লেখা রয়েছে ‘ সত্যমেব জয়তে ‘ । এটি মুণ্ডক উপনিষদ থেকে নেওয়া হয়েছে।

ভারতের জাতীয় সঙ্গীত

ভারতের জাতীয় সংগীত হলো জনগণমন….

রচয়িতা

১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জনগণমন সংগীতটি ভারতের জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়।

ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস

ব্রাহ্মমন্র বা স্তব থেকে এটি গৃহীত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রথম ৫ টি স্তবক বাংলা ভাষায় রচনা করেন।

১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে এই সংগীতটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল।

সম্পূর্ণ সংগীতটি গাইবার সময় হল ৫২ সেকেন্ড। তবে ক্ষেএ বিশেষে ২০ সেকেণ্ডের মধ্যে জাতীয় সংগীতের সংক্ষিপ্ত রূপ গাওয়া হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় ‘ তত্ত্ববোধিনী ‘ পত্রিকাতে ১৯১২ সালে ‘ জনগণমন ‘ গানটি প্রথম ‘ ভারত বিধাতা ‘ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ সালে ‘ Mornings songs of India ‘ শিরোনামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।


আরও পড়ুন – ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অবদান। 

আশা করি এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

আশা করি আপনি ভারতের জাতীয় পতাকা , জাতীয় প্রতীক , জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য।

ভারতের জাতীয় জিনিস সম্পর্কে সকলকে জানানোর জন্য এই পোস্টটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো


পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment