ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের হাইকোর্ট।

421
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের হাইকোর্ট।
সরকারি সুবিধা,সরকারি প্রকল্প, শিক্ষামূলক পোস্ট,সমস্ত ধরনের অফার,ইনকাম সম্পর্কিত পোস্ট (Online Shikkha Site টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন )Click Here

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের হাইকোর্ট। 

আপনি কি ভারতের ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সম্পর্কে জানতে চান।

যদি তাই হয়, আপনি ঠিক পোস্টে এসে পৌঁছেছেন।

আমরা সকলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সম্পর্কে জানতে খুব আগ্রহী থাকি । 

 তার জন্য আমরা অনলাইনে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের সার্চ করতে থাকি । 

আপনি যে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই পোস্টটিতে পাবেন তা হল – ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের হাইকোর্ট। বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি। বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা। বিচারপতির মেয়াদ । বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা ইত্যাদি ।

পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো 

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট 

মূল সংবিধানে বলা হয়েছিল যে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একজন প্রধান বিচারপতি এবং অনাধিক ৭ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হবে। তবে পার্লামেন্ট আইন প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়াতে পারে।  ১৯৮৬ সালে প্রণীত একটি আইন অনুসারে বর্তমানে ১ জন প্রধান বিচারপতি এবং ২৫ জন‌ অন্যান্য বিচারপতি অর্থাৎ সর্বমোট ২৬ জন বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয়েছে। ( ১২৪ – ১ নং ধারা ) ।

তা ছাড়া, রাষ্ট্রপতির পূর্ব সম্মতিক্রমে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন হলে অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন।

বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি‌ হতে গেলে –

(১) একজন ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। 

(২) ৫ বছর কোনো হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে কাজ করে থাকতে হবে অথবা ১০ বছর কোনো হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করে থাকতে হবে। 

(৩) রাষ্ট্রপতির মতে তাঁকে একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ হতে হবে।

বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি

সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারপতি রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত হন। তবে এরূপ নিয়োগের আগে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের যেসব বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন মনে করেন, তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করার পরই তিনি এরূপ নিয়োগ করে থাকেন।  কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগের আগে রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে ( ১২৪ – ২ নং ধারা )। 

তত্ত্বগতভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিয়োগ হলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী তিনি বিচারপতিদের নিয়োগ করেন।

আরও পড়ুন – ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অবদান

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা|সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বয়সসীমা, মেয়াদ  

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিজেদের পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে কয়েকটি কারণে বিচারপতির পদ শূন্য হতে পারে যেমন –

 ১) বিচারপতি নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করলে।

২) বিচারপতির মৃত্যু হলে। 

৩) বিচারপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে কার্যকাল শেষ হওয়ার আগেই তবে কেবল প্রমাণিত অসদাচরণ

কিংবা অসামর্থ্য ছাড়া অন্য কোন কারণে সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না।

কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণ কিংবা অসামর্থ্যের কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রস্তাব আকারে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের কাছে পেশ করতে হয়।

সেই প্রস্তাব পার্লামেন্টে গৃহীত হতে গেলে উভয় কক্ষের মোট সদস্যদের দুই – তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। 

এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে আপসারণ করতে পারেন ( ১২৪ – ৪ নং ধারা )। 

তবে ১৯৯২ সালে প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় অনুসারে, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিকে আপসারণ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির যে কোনো নির্দেশের বৈধতা বিচারের ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।

ভারতের হাইকোর্ট 

রাজ্যের বিচার বিভাগের শীর্ষে হাইকোর্টের অবস্থান। সংবিধান অনুসারে ভারতের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে একটি করে হাইকোর্টে থাকবে । অবশ্য পার্লামেন্ট আইনের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক রাজ্যের জন্য একটি হাইকোর্ট স্থাপন করতে পারে ( ২৩১ – ১ নং ধারা )। এইভাবে বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্ট রয়েছে।

বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা

হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতার প্রয়োজন, সেগুলো হলো – 

 ১) বিচারপতিকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। 

২) তাঁকে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত যে কোন বিচার বিভাগীয় পদে কমপক্ষে ১০ বছর আসীন থাকতে হবে

অথবা ১০ বছর কোনো হাইকোর্ট কিংবা দুই বা ততোধিক এই ধরনের আদালতে একাদিক্রমে অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করতে হবে।

বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি

হাইকোর্টের বিচারপতিগণ রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত হন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করেন। অন্য বিচারপতিদের নিয়োগের সময় রাষ্ট্রপতি ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যপাল ছাড়াও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। 

তত্ত্বগতভাবে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ অন্য বিচারপতিদের নিয়োগ করলেও কার্যক্ষেত্রে ওইসব নিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

হাইকোর্টের  বিচারপতিদের বয়সসীমা|অপসারণের ক্ষমতা,মেয়াদ

৬২ বছর বয়স পর্যন্ত হাইকোর্টের বিচারপতিগণ নিজপদে বহাল থাকতে পারেন। তবে কয়েকটি কারণে বিচারপতির পদ শূন্য হতে পারে যেমন –

১) তিনি নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করলে।

 ২) বিচারপতির মৃত্যু হলে।

৩) রাষ্ট্রপতি তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করলে বা অন্য কোনো রাজ্যের হাইকোর্টে স্থানান্তর করলে। 

৪) কিংবা তাঁকে অপসারণ করা হলে কার্যকাল শেষ হওয়ার আগেই।

অসদাচরণ কিংবা অসামর্থ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাইকোর্টের যে কোনো বিচারপতিকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে।

বিচারপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রস্তাব যদি পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই – তৃতীয়াংশের সমর্থনে গৃহীত হয়, তবে রাষ্ট্রপতি অভিযুক্ত বিচারপতিকে পদ থেকে সরাতে পারেন।

তবে ১৯৯২ সালে প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় অনুযায়ী হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে আপসারণ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির যে কোনো নির্দেশের বৈধতা বিচারের ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।


আরও পড়ুন – ভারতের হাইকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি 

আরও পড়ুন – লোক আদালত 

আশা করি আপনি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন এই পোস্টটি থেকে । 

আশা করি এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে ।

অনেক ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য।

বিদ্রঃ – এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে শেয়ার বটম এ ক্লিক করে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here